রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ঢাকা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের আব্দুল লতিফ ছাত্রাবাসে শিবির ও ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘাতের সময় শান্ত সরকার নামে এক হিন্দু শিক্ষার্থীর রগ কাটার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিক্ষার্থী নিজেই গণমাধ্যমের কাছে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান।
আহত শিক্ষার্থী শান্ত সরকার জানান, তারাবির নামাজ শেষে ছাত্রাবাসে ফেরার পথে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী তাকে ধরে মারধর করতে করতে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। শান্ত তাদের বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত নন এবং তিনি একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী। কিন্তু হামলাকারীরা তা কর্ণপাত না করে তাকে আটকে রেখে ধারালো ছুরি আনতে যায় এবং তার রগ কাটার হুমকি দেয়।
প্রাণভয়ে শান্ত সরকার ওই কক্ষের জানালা দিয়ে দোতলা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। এতে তার পা গুরুতর জখম হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের আঘাত লাগে। শিক্ষার্থীরা জানান, মূলত এক শিবির কর্মীকে মারধর করাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে পুরো ছাত্রাবাসে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর ছাত্রাবাস এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ এবং এই হামলার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
