মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)-এর একটি জাহাজ অল্পের জন্য ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় জাহাজটির মাত্র প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি ড্রোন বিস্ফোরিত হয়।
বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা ও এর ৩১ নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। তবে হামলার পর সাময়িকভাবে পণ্য খালাস বন্ধ রাখা হয়। দুই দিন পর খালাস কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলেও বর্তমান যুদ্ধসংকুল পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি এখনই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারছে না।
আরও তিন বাংলাদেশি জাহাজ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মেরিন ট্রাফিক সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় আরও তিনটি বাংলাদেশি জাহাজ অবস্থান করছে কেএসআরএম গ্রুপ–এর দুটি জাহাজ
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ–এর একটি জাহাজ
কেএসআরএম গ্রুপের এক জাহাজ ওমানের সালালা বন্দরগামী এবং অন্যটি কুয়েতের উদ্দেশ্যে রওনা ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজ দুটির গতি কমাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মেঘনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মার্কেন্টাইল শিপিং লাইনসের একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান বন্দরে জ্বালানি নিতে যাওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি আরব সাগরে অবস্থান করছে।
ড্রোন বিস্ফোরণের ভয়াবহতা
এক নাবিক সামাজিক মাধ্যমে জানান, ড্রোনটি জাহাজের খুব কাছেই বিস্ফোরিত হয় এবং মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল জাহাজটিই হামলার লক্ষ্যবস্তু। বিস্ফোরণের শব্দ ও আলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, এমভি বাংলার জয়যাত্রা গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মোসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮,৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন সেখানে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাহাজগুলোকে বাড়তি সতর্কতা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
