রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট দলের সংঘর্ষের জেরে বন্ধ হয়ে যাওয়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ছয় মাসের প্রচেষ্টার পর আজ ৪ মার্চ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সভা ডেকেছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)।
২০২২ সালের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ক্রিকেট দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিযোগিতা স্থগিত হয়ে যায়। এরপর আর নতুন করে খেলা শুরু করার কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।
এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা পুনরায় চালুর দাবিতে কাজ শুরু করেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর বাজেট সংকটের কারণে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। তবে প্রতিযোগিতা চালুর বিষয়ে তিনি নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এ স্মারক দেন তিনি। এ বিষয়ে কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ড. তানজিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেন বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ২০২২ সালের পর বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার সভাপতির দায়িত্বে থাকা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর তৎকালীন ও পরবর্তী ভিসির সঙ্গেও কথা বলেন।
পরবর্তীতে কুয়েটে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। এ অবস্থায় ইউজিসির মাধ্যমে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্ব অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাবও দেন তিনি।
অবশেষে গত সপ্তাহে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ৪ মার্চ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরুর লক্ষ্যে সভা আহ্বান করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী তিন মাসের মধ্যে বিভিন্ন ইভেন্ট সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে প্রতিযোগিতা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট শুরু করতে আলাদাভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর কাছেও দুই কোটি টাকার অনুদান চেয়ে স্মারক দেন আরমান হোসেন। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাকে এগিয়ে নিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
নিজের পোস্টে তিনি জানান, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের জন্য একটি স্বপ্নের মঞ্চ। ব্যক্তিগতভাবে অংশ নিতে না পারার আক্ষেপ থেকেই নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ তৈরি করতে তিনি কাজ করেছেন।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, সদস্য রাইহান উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া সম্পাদক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
দীর্ঘ অচলাবস্থার পর আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুনরায় চালুর এ উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন সবার নজর ৪ মার্চের সভা ও পরবর্তী প্রস্তুতির দিকে।







