জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় দুইজনকে হত্যা ও আরও দুজনকে গুলি করার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় স্থগিতের আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স—উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, মামলার বর্তমান অবস্থায় কিছু আইনি ও তথ্যগত ‘ঘাটতি’ রয়ে গেছে বলে তারা মনে করছেন। তিনি বলেন, “প্রসিকিউশন রায় স্থগিতের আবেদন করবে। আমাদের বিশ্বাস, এই ঘাটতিগুলো সংশোধন করার সুযোগ এখনও আমাদের আছে।” মূলত মামলার ভিত্তি আরও মজবুত করতেই এই কৌশলগত অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এই মামলায় তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান, এসআই তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। আসামিদের মধ্যে কেবল চঞ্চল চন্দ্র সরকার বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে আছেন, বাকি চারজন পলাতক।
প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরায় পুলিশি অভিযানে ৬ বছরের শিশু মুসা গুলিবিদ্ধ হয় এবং সেই একই গুলি তার দাদি মায়া বেগমকে বিদ্ধ করলে তিনি মারা যান। একই ঘটনায় মো. নাদিম নামে আরও একজন নিহত হন। এছাড়া ১৮ বছর বয়সী আমির হোসেনকে একটি ভবনের কিনারায় ঝুলে থাকা অবস্থায় কাছ থেকে গুলি করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর এই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চার্জ গঠন করেছিল ট্রাইব্যুনাল। ১৬ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। এখন প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।







