যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তারা এখনও তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ও উন্নত অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেনি বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক জানান, এই ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে’ দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ গড়ার ও আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে।

রেজা তালাই-নিক বলেন, “আমরা কৌশলগত কারণে যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতেই সমস্ত উন্নত অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করি না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান ধাপে ধাপে পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। ইরানের এই দাবি মূলত ওয়াশিংটন ও তেলআবিবকে একটি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি যে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেহরান তাদের গোপন সামরিক শক্তির প্রয়োগ ঘটাবে।
অন্যদিকে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সেন্টকম প্রধান জেনারেল কুপার জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান এ পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজারের বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে। তার দাবি অনুযায়ী, এত বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র উৎক্ষেপণের ফলে ইরানের মজুত ও পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা বর্তমানে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।
জেনারেল কুপারের মতে, ক্রমাগত হামলার মুখে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ধীরে ধীরে ক্ষয়ে আসছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই দাবিকে নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। তেহরান বরং তাদের সামরিক মজুত অটুট থাকার এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য স্পষ্ট করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি এক তীব্র তথ্যযুদ্ধও (Information War) চলছে। একদিকে ইরান নিজেদের অব্যবহৃত উন্নত অস্ত্রের ভয় দেখাচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে ইরানের শক্তি শেষ হয়ে আসছে। উভয় পক্ষের এমন কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের পরিবর্তে আরও দীর্ঘায়িত রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ইঙ্গিত দিচ্ছে।







