মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পঞ্চম দিনে এক বিশাল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বুধবার (৪ মার্চ) আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলো লক্ষ্য করে অন্তত ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এই হামলাটি তাদের ‘অপারেশন অনেস্ট প্রমিজ ৪’-এর অংশ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স বুধবার ভোরে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করে। এটি ছিল চলমান অপারেশনের ১৭তম ধাপ। গত শনিবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি ইরানের অন্যতম বৃহৎ এবং সুপরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আমেরিকান ও ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও আঘাত হানতে সক্ষম। যদিও এই হামলায় নির্দিষ্ট কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোন কোন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি তেহরান। তবে একে ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছে আইআরজিসি।
এই হামলার পর ইরাক, সিরিয়া এবং লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে আঞ্চলিক গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে যে হামলার সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো অত্যন্ত সক্রিয় ছিল।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের পঞ্চম দিনে এসেও ইরানের এই ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করে যে তারা পিছু হটতে রাজি নয়। বরং পাল্টাপাল্টি এই আক্রমণ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী এবং ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আইআরজিসি পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানি স্বার্থে আঘাত করা হলে তার জবাব হবে আরও কঠোর ও বিধ্বংসী।







