মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে ইরান তার সামরিক শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে। এবার সরাসরি বিশ্বজুড়ে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসগুলোতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবুলফজল শেখরচি টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই হুমকি প্রদান করেন। তিনি জানান, লেবাননে অবস্থিত ইরানি মিশনে যদি ইসরায়েল কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে ইরানও বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের মিশন বা দূতাবাসগুলোকে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে বাধ্য হবে।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ), যখন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদরাই লেবাননে অবস্থানরত ইরানি প্রতিনিধিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এলাকা ছাড়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। ইসরায়েলের এই আলটিমেটামকে সরাসরি যুদ্ধের উস্কানি হিসেবে দেখছে তেহরান।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক দিনে ইরান যেভাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ফাত্তাহ-২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল প্রয়োগের পর ইরানের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা ইসরায়েলি দূতাবাসগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কূটনৈতিক মিশনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই হুমকি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







