গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭৩ সালের চার বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আবুল কালাম দাড়িয়াকে এই কমিটির আহ্বায়ক করায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিতর্কিত এই কমিটি রাতের আধারে গঠন করা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান শেখসহ স্থানীয় অনেক মুক্তিযোদ্ধা দ্রুত এই কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, একজন হত্যা মামলার আসামিকে মুক্তিযোদ্ধাদের অভিভাবক সংগঠনের দায়িত্বে রাখা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ জনসভা শেষে ফেরার পথে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউর রহমান লেবু, কমলেশ বেদজ্ঞ, বিষ্ণুপদ কর্মকার ও রামপ্রসাদ চক্রবর্তী মানিককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ৩ নম্বর আসামি হলেন আবুল কালাম দাড়িয়া। দীর্ঘ ৫৩ বছর ধরে মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার বর্তমান বাদী ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা কমলেশ বেদজ্ঞের মেয়ে সুতপা বেদজ্ঞ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন খুনিকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক করায় আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে লজ্জিত।” তিনি জানান, ২৩ জন আসামির মধ্যে ২০ জনই মারা গেছেন, বাকি ৩ জনের বিচার দেখে যেতে পারবেন কি না তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কালাম দাড়িয়া। তিনি দাবি করেন, তাকে শত্রুতা করে ওই মামলায় আসামি করা হয়েছিল এবং তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তার দাবি, কোটালীপাড়ার সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক ফিরোজ খান জানিয়েছেন, আবুল কালাম দাড়িয়া যে হত্যা মামলার আসামি ছিলেন তা তার জানা ছিল না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা কমিটির সদস্যরা আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।







