সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
অব্যাহতি পাওয়া নেতারা হলেন কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম এবং স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. মাহদীজ্জামান জ্যোতি।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।
অব্যাহতি পাওয়া মো. মাহদীজ্জামান জ্যোতি ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের আপন ছোট ভাই। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্যোতির মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সংগঠনটির ভেতরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। দলীয় সূত্র জানায়, মূলত এই বিতর্কের জেরেই তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শেখ তানভীর বারী হামিমের বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
তবে হামিমকে পদ থেকে অব্যাহতির ঘটনাকে ভিন্নভাবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই। তাদের মতে, সামনে সম্ভাব্য ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে ঘিরে আলাদা একটি ইমেজ তৈরি করার কৌশলের অংশ হিসেবেও বিষয়টি দেখা হতে পারে।
ক্যাম্পাসের একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচনের আগে সংগঠন থেকে দেওয়া এই অব্যাহতি পরে তুলে নিয়ে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে প্রার্থী করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এ বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।
ফলে হামিমকে অব্যাহতির ঘটনাকে ঘিরে ক্যাম্পাসে এখন রাজনৈতিক নানা আলোচনা ও জল্পনা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে সম্ভাব্য ডাকসু নির্বাচন সামনে রেখে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।







