বিশ্বের ড্রোন প্রস্তুতকারক দেশগুলোর মধ্যে ইরান এখন প্রথম সারিতে অবস্থান করছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুদানে পরিচালিত সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইনফরমেশন’-এর তথ্যমতে, তেহরান বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন তৈরির বিশাল সক্ষমতা অর্জন করেছে। ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে নানা সমীকরণ থাকলেও এর সঠিক সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অনুমান অনুযায়ী তেহরানের কাছে প্রায় ২৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। তবে অনেক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মনে করেন, এই সংখ্যা ৬০০০-এর কাছাকাছি হতে পারে। লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে নিয়মিত অস্ত্র সরবরাহ করায় ইরানের নিজস্ব মজুত কিছুটা কমলেও তা দ্রুত পূরণ করে নিচ্ছে তেহরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর ইরানের হামলা তীব্রতর হয়েছে। গত কয়েক দিনে ইরান কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়েছে। যদিও অধিকাংশ হামলা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে, তবুও কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
রয়টার্সের দাবি অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী প্রায় অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ যাওয়ার চেষ্টা করলে তাতে হামলা চালানো হবে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছরের সংঘর্ষে ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র (লঞ্চার) ধ্বংস হওয়ায় তারা কিছুটা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে পারে। তবে ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষক ফারজিন নাদিমির মতে, ইরানের অত্যাধুনিক ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের পাল্লা ৭০০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। ফলে ইরানের মূল ভূখণ্ড বা জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণ করা এই ড্রোনগুলো পারস্য ও ওমান উপসাগরীয় অঞ্চলের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী।







