অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে “জামায়াতকে মেইনস্ট্রিম হতে দিইনি” বলে মন্তব্য করার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই বক্তব্য ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার মধ্যেই মধ্যরাতে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঠালিয়া) আসনের সাবেক বিএনপি নেতা ড. ফয়জুল হক।

ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার মধ্যে ঝালকাঠি-১ আসনের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয় মিছিল হয় এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে এমপি হিসেবে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজাপুর সদর, কাঠালিয়া সদরসহ প্রায় সব কেন্দ্রেই তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন এবং প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়েছিলেন।
ড. ফয়জুল হক আরও বলেন, বিভিন্ন সাংবাদিকও তাকে অভিনন্দন জানান। তবে হঠাৎ করেই “গায়েবি মেসেজের” মাধ্যমে তার সেই বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ফলাফলে ৬ হাজার ভোটের ব্যবধান দেখানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, “উপদেষ্টাদের নানা বিতর্কিত মন্তব্য আজ আমাকে ভাবিয়ে তুলছে। ভাবছি, দেশের জন্য এত লড়াই-সংগ্রাম করলাম; এমনকি নিজের দল বিএনপির জন্য অনলাইনে কত কথা বললাম। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করার কারণে কিভাবে আমার সেই বিজয় তারাই কেড়ে নিল? আল্লাহ, তুমি নিশ্চয়ই মহাপরাক্রমশালী।”
উল্লেখ্য, ড. ফয়জুল হক একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন নিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ঝালকাঠি-১ আসনে নির্বাচন করেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, মনোনয়ন পাওয়ার আগে তিনি জামায়াতের আমীরে এবং মাওলানা সাইদী পুত্র শামীম সাইদীর পা ধরে সালাম করার ভিডিও নিজ ফেসবুকে প্রচার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে দলের শীর্ষ নেতাদের মন জয় করার চেষ্টা করেন। এরপরই তিনি জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন।
রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন ড. ফয়জুল হকের এই ফেসবুক পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।







