ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা, ইংরেজি ও আইন বিভাগে ভর্তির সুযোগ বন্ধ করার এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে লিপ্ত হয়েছিল, তখন তার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছিলেন অকুতোভয় তরুণ ওসমান বিন হাদী (যিনি পরবর্তীতে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রসেনানী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিতি পান)।
সেই সময়ে ওসমান হাদি ঝালকাঠি এন.এস. কামিল মাদ্রাসায় আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক) শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। মাসুমা হাদি তার স্মৃতিচারণায় জানান, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি এই বৈষম্যমূলক ‘নীলনকশা’ রুখে দিতে ওসমান তার সহপাঠীদের নিয়ে ঝালকাঠিতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেন। কেবল মিছিলই নয়, তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সরাসরি জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মাসুমা হাদি হলেন ছাত্রনেতা ওসমান হাদির আপন বড় বোন। ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রজীবন থেকেই ওসমান হাদি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অধিকার রক্ষায় তার সেই শুরুর দিকের সংগ্রামই পরবর্তীতে তাকে জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে নিয়ে আসে।
উল্লেখ্য যে, শরিফ ওসমান হাদি ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় এক সন্ত্রাসী হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং তাকে ‘শহীদ ওসমান হাদি’ হিসেবে স্মরণ করা হয়।







