চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং ইরান যুদ্ধের উত্তেজনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের একটি বিশেষ ছাড় (Waiver) দিয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ, ২০২৬) মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে জানান, সাগরে আটকে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারতীয় শোধনাগারগুলোকে এই সাময়িক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি একে একটি ‘স্টপ-গ্যাপ’ বা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মূলত ইরান কর্তৃক বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে ‘জিম্মি’ করার প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করতে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ভারতের জ্বালানি পরিস্থিতি বেশ সংকটাপন্ন। দেশটির মোট আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী দিয়ে, যা যুদ্ধের কারণে বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে। সরকারি তথ্যমতে, ভারতের কাছে বর্তমানে মাত্র ২৫ দিনের অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে। এই সরবরাহ ঘাটতি মেটাতে ভারতের রাষ্ট্রীয় শোধনাগারগুলো—ইন্ডিয়ান অয়েল, বিপিসিএল, এইচপিসিএল এবং এমআরপিএল—ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল রুশ তেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে মার্কিন চাপে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল। বিনিময়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর থেকে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। তবে বর্তমান জরুরি অবস্থা বিবেচনায় ওয়াশিংটন নিজেই ভারতকে রাশিয়ার দ্বারস্থ হওয়ার সবুজ সংকেত দিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে যে, এই ছাড় কেবল সাগরে ভাসমান বা ট্রানজিটে থাকা তেলের চালানের জন্যই প্রযোজ্য হবে, যাতে রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদে বড় কোনো আর্থিক সুবিধা না পায়।
প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে যে তারা নয়াদিল্লির জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ভারতকে রাশিয়ার বদলে মার্কিন তেলের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছে ওয়াশিংটন।







