ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বসরায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিখোঁজ পাইলটের সন্ধানে ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী।
বসরা পুলিশ কমান্ডের একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, বসরার প্রশাসনিক সীমানার ভেতরে একটি মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ইউনিটগুলোকে নির্দিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বিমানে থাকা একজন মার্কিন পাইলটকে খুঁজে বের করা। তবে বিমানটির ধরণ বা দুর্ঘটনার সঠিক সময় সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।
এই খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে বসরার আকাশে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার দাবিকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেন্টকম তাদের এই বিবৃতিতে দুইবার পরিবর্তন এনেছে। প্রথম সংস্করণে তারা দাবি করেছিল যে কোনো মার্কিন বিমান ‘বিধ্বস্ত’ (Crashed) হয়নি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই সেই বার্তাটি এডিট করে তারা জানায় যে, কোনো মার্কিন বিমান ‘ভূপাতিত’ (Shot down) করা হয়নি। শব্দের এই পরিবর্তন নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সেন্টকমের বার্তার এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয় যে তারা দুটি ভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েই কাজ করছিল—একটি হলো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা এবং অন্যটি হলো শত্রুভাবাপন্ন কোনো পক্ষের হামলা। তবে চূড়ান্তভাবে তারা বসরার আকাশে তাদের কোনো বিমান হারানোর খবর নিশ্চিত করেনি।
ইরাকের স্থানীয় গণমাধ্যম এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর বক্তব্যের এই বৈপরীত্যের কারণে ওই এলাকায় এক ধরণের তথ্য বিভ্রাট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বসরা বা তার আশেপাশে কোনো ধরণের সামরিক অভিযানের খবরও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।







