যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান মোকাবিলায় ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি জানান, মার্কিন সেনারা যদি ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশের ধৃষ্টতা দেখায়, তবে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে এবং প্রয়োজনে কয়েক হাজার সেনাকে বন্দি করা হবে।
সাম্প্রতিক কয়েক দিনের উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ না করার পরই লারিজানির এই মন্তব্য সামনে এলো। লারিজানি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে লিখেছেন, “কয়েক হাজার সেনা নিয়ে ইরানে প্রবেশের পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য আমাদের কানে পৌঁছেছে। কিন্তু ইমাম খোমেনি ও শহীদ খামেনির বীর সন্তানেরা তাদের উচিত শিক্ষা দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।”
একই সুরে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান কোনো মার্কিন হামলাকে ভয় পায় না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যেকোনো স্থল অভিযান মার্কিন সেনাদের জন্য এক ‘বিরাট বিপর্যয়’ ডেকে আনবে। আরাগচি আরও স্পষ্ট করেন যে, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক নয় এবং কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও দেয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডারেরা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
বর্তমানে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের ওপর ব্যাপক আক্রমণ চালানো হলেও লারিজানি ও আরাগচি—উভয় নেতাই জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইরানের সামরিক শক্তি এখনো অটুট। তারা জানিয়েছেন, ইরান কোনোভাবেই হার মানবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।







