ওয়াশিংটন পোস্টের এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, রাশিয়া বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান বাহিনী এবং তাদের সামরিক সরঞ্জামগুলোর অবস্থানের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে। এই তথ্য ব্যবহার করে ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানগুলোকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের শুরু থেকেই রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক সম্পদের অবস্থান জানাতে সাহায্য করছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং বিভিন্ন কৌশলগত বিমানের অবস্থানের তথ্যও রয়েছে। মূলত ইরানের নিজস্ব গোয়েন্দা ব্যবস্থা বা স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সক্ষমতা তুলনামূলক সীমিত হওয়ায় রাশিয়ার এই উচ্চ-প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা সহায়তা তেহরানের জন্য অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়ার দেওয়া এই তথ্যের ভিত্তিতেই ইরান সম্প্রতি বাহারাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (5th Fleet) সদর দপ্তরের পাশে একটি ভবনে ড্রোন হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া কুয়েতে একটি ড্রোন হামলায় ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাতেও এই গোয়েন্দা তথ্যের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও ইরানের এই সামরিক সহযোগিতা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি নতুন ফ্রন্ট তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের ড্রোন ব্যবহারের প্রতিদান হিসেবে রাশিয়া এখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কারিগরি ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। এর মাধ্যমে ইরান এখন লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর চলাচলের ওপর অনেক বেশি নজরদারি রাখতে পারছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে রাশিয়ার এই সরাসরি সম্পৃক্ততাকে যুদ্ধের একটি বিপজ্জনক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগের কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে মার্কিন গোয়েন্দারা সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়ার দেওয়া এই ‘টার্গেটিং ইনফরমেশন’ ব্যবহারের ফলে আগামী দিনগুলোতে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।







