পরিবেশে সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন আবদুল মুকিত মজুমদার ওরফে মুকিত মজুমদার বাবু। তবে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে হ*ত্যার একটি মামলা রয়েছে তার নামে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠান। গতকাল, ৫ মার্চ, মন্ত্রিসভা বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। এটি প্রদান করা হয় ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা এবং একটি সম্মাননাপত্রসহ। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক প্রদান করেন।
মুকিত মজুমদার বাবু ইমপ্রেস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। ২০০৯ সালে তিনি প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১০ সালে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবিলা বিষয়ে চ্যানেল আইতে ধারাবাহিক তথ্যচিত্র ‘প্রকৃতি ও জীবন’ প্রচার শুরু করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১২’, ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন-২০১৩’ এবং ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১৫’ গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার হাত থেকে তিনি একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট জানাতে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেসবাহ উদ্দিন বলেন, “আমি এখন বাইরে আছি, মামলা আছে কি না দেখে বলতে পারবো না।” মামলার বাদি মো. সুমনের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
এক ফেসবুক পোস্টে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান প্রশ্ন তুলেছেন, “একজন ব্যক্তি যিনি এ ধরনের মামলার আসামি, তাঁকে কীভাবে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হলো? এটি কি প্রশাসনিক ভুল, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের ফল?”







