যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইরানকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, বেইজিং সম্ভবত তেহরানকে আর্থিক সহায়তা, সামরিক যন্ত্রাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন উপাদান সরবরাহের পরিকল্পনা করছে। তবে এখন পর্যন্ত চীন বা ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন তাদের সমর্থনের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। তারা মূলত যুদ্ধের অবসান চায়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা চীনের জ্বালানি সরবরাহকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে ইরানি তেলের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে তেহরানকে চীন চাপ দিতে পারে বলেও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, রাশিয়া ইতিমধ্যে ইরানকে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। যদিও চীন বা রাশিয়ার কাছ থেকে সরাসরি সামরিক কোনো সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে কি না, সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কেবল জানিয়েছেন যে, বন্ধু রাষ্ট্রগুলো তাদের রাজনৈতিক ও অন্যান্য দিক থেকে সহযোগিতা করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করার পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানালেও বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ রাশিয়া ও চীন এখন পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়নি। তবে পর্দার আড়ালে তাদের এই কূটনৈতিক ও কৌশলগত তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে নতুন সমীকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।







