রাজধানীর শাহবাগে ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার একপর্যায়ে ছাত্রলীগ সমর্থিত টিএসসিভিত্তিক সংগঠন ‘স্লোগান ৭১’ এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি এর সঙ্গে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন কে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গণধোলাই দিয়ে থানায় সোপর্দ করেছে।
ঘটনা ঘটে শুক্রবার (৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে। সূত্র অনুযায়ী, রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোর অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটক করার প্রতিবাদে ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলো উত্তেজিত হয়। এ পরিস্থিতিতে ইমি রিকশায় মাইক বেঁধে সাউন্ড বক্সে ৭ই মার্চের ভাষণ বাজাতে শুরু করেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কিছু বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ভাষণ চলাকালীনই উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইমি ও তার সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ‘ছাত্রলীগ ট্যাগ’ দিয়ে পিটিয়ে দেন। পরে রিকশাটি সরিয়ে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলেও, সেখানে তিনি গণধোলাই খেয়ে পুলিশের হেফাজতে সোপর্দ হন।
ঘটনার খবরে শাহবাগ থানার বাইরে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় আধাঘণ্টা সময় ব্যয় করে।
এই ঘটনার পর ইমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করেন, “বিনা উসকানিতে আমাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। মাইকের ব্যাটারি ছিনতাই করা হয়েছে, মাইকও নিতে চেয়েছিল, আমরা বাধা দিয়েছি।”
বর্তমানে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
