জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট থেকে কওমি ধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে বের করে আনতে বড় ধরনের তৎপরতা শুরু করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। কওমি অঙ্গনের বিভক্তি দূর করতে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে সাতটি ইসলামী দলকে নিয়ে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার বিষয়ে সব দল এখনো একমত হতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতের আমিরের সভাপতিত্বে চার ঘণ্টাব্যাপী এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, কওমি অঙ্গনের আলেমরা ঐতিহাসিকভাবেই জামায়াতবিরোধী। বিগত নির্বাচনে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী আসন সমঝোতা করায় হেফাজতের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে তাদের তীব্র দূরত্ব ও বিভক্তি তৈরি হয়। এই কারণে হেফাজত আমির চান, কওমি ধারার দলগুলো জামায়াতসহ অন্য কোনো দলের জোটে না গিয়ে নিজেদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলুক।
হেফাজতের এই উদ্যোগের মুখে কওমি দলগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন সুর দেখা গেছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক স্পষ্ট জানিয়েছেন, বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল কেবল দূরত্ব দূর করা, নতুন কোনো রাজনৈতিক জোট গঠনের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তিনি এর আগে হেফাজত আমিরকে জানিয়েছিলেন যে, জামায়াতের সঙ্গে তাঁদের ঐক্য আদর্শিক নয়, কেবলই রাজনৈতিক ছিল। অর্থাৎ, জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার বিষয়ে তাঁরা এখনই পুরোপুরি রাজী নন।
অন্যদিকে, জামায়াত জোটের বাইরে থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী জানান, হেফাজত আমিরের ইচ্ছানুযায়ী সাতটি দল আপাতত ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে কী প্রক্রিয়ায় বা কাঠামোতে এই ঐক্য হবে, তা এখনো চূড়ান্ত নয়।
হেফাজতের আমির কওমি দলগুলোকে জামায়াতের প্রভাবমুক্ত করতে চাইলেও কয়েকটি দলের আপত্তির কারণে বিষয়টি এখনো ঝুলে রয়েছে। দলগুলোর দূরত্ব ঘোচাতে এবং পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণে প্রতিটি দলের কাছ থেকে আগামী আগস্টের শুরুর মধ্যে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাবনাগুলো পর্যালোচনার পরই স্পষ্ট হবে, হেফাজতের চাপে দলগুলো শেষ পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ে কি না।
