ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম চূড়ান্ত হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও তেহরান থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় পুত্রই দেশটির শীর্ষ ক্ষমতার আসনে বসতে যাচ্ছেন।
মোজতবা খামেনি ১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের ধর্মীয় নগরী মাশহাদে এক প্রভাবশালী আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠেন এবং ইসলামি বিপ্লব-পরবর্তী ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি অবস্থান করেন। তরুণ বয়সে তিনি ইরান–ইরাক যুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবী ইউনিটে যোগ দেন, যা তার জীবনের প্রথম সামরিক অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে মোজতবা ইরানের প্রধান শিয়া শিক্ষা কেন্দ্র কোমে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি মাহমুদ হাশেমি শাহরুদি এবং মোহাম্মদ-তাকি মেসবাহ-ইয়াজদির মতো প্রভাবশালী আলেমদের অধীনে ইসলামি ফিকহ ও ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কোমের হাওজায় ‘দারস-এ-খারেজ’ বা সেমিনারি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরে পাঠদান করে আসছেন, যা তাকে ধর্মীয় মহলে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
পারিবারিক জীবনে তিনি প্রভাবশালী রক্ষণশীল রাজনীতিক গোলাম-আলি হাদ্দাদ-আদেলের কন্যা জাহরা হাদ্দাদ-আদেলকে বিয়ে করেন। মজার বিষয় হলো, দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখলেও মোজতবা খামেনেই কখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদ, নির্বাচিত দায়িত্ব বা নির্বাহী পদে কাজ করেননি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তাকে সবসময় ‘পর্দার আড়ালের কারিগর’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকে। তার প্রকাশ্য ভাষণ, সাক্ষাৎকার বা রাজনৈতিক সক্রিয়তা খুবই সীমিত হলেও আইআরজিসি এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর তার বিশেষ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে তার নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানালেও, ইরানের অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় মোজতবা খামেনেই এখন সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন।







