যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সামরিক হামলা বন্ধ হলে ইরান যুদ্ধবিরতিতে যেতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাজনৈতিক উপ-পরিচালক মাজিদ তখত-রাভানচি। সোমবার (৯ মার্চ) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসনা (ISNA)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চীন, রাশিয়া এবং ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ চলমান সংঘাত নিরসনে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়ে তেহরানের সাথে যোগাযোগ করেছে। তেহরান এসব দেশের শান্তিপ্রস্তাব ইতিবাচকভাবে দেখছে, তবে তাদের প্রধান শর্ত হলো—ইরানের ওপর চালানো ‘আগ্রাসন’ অবশ্যই স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
সাক্ষাৎকারে গরিবাবাদি বলেন, “যুদ্ধবিরতির জন্য আমাদের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো—আগ্রাসন পুনরাবৃত্তি করা যাবে না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরান কোনো সংঘাত চায় না, তবে আক্রান্ত হলে আত্মরক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে। বর্তমানে তেহরান আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের সাথে আলোচনার পথ খোলা রেখেছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত হামলা অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিশোধমূলক পাল্টা জবাব দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ থাকবে না। তিনি দাবি করেন, ইরান এই যুদ্ধ শুরু করেনি এবং আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধান হওয়া উচিত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা নিহতের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে ইরান এখন কৌশলগত কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থানের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। বেশ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতা করলেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
