ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ সচিব আলি লারিজানি হরমুজ প্রণালী নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ে ইরানের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব তুলে ধরে আলি লারিজানি বলেন, “হয় হরমুজ প্রণালী সবার জন্য শান্তি ও অগ্রগতির কারণ হবে, আর নাহলে সেটা যুদ্ধবাজদের পরাজয় ও ভোগান্তির কারণ হবে।” তার এই বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি সরাসরি সামরিক হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরানকে বাদ দিয়ে এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা সম্ভব নয়।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। লারিজানি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান চাইলে যেকোনো সময় এই পথ বন্ধ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামাতে পারে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি ইরানকে উস্কানি দেওয়া অব্যাহত থাকে, তবে এই জলপথ শত্রু বাহিনীর জন্য কেবল পরাজয় আর ক্ষয়ক্ষতির ভাগাড় হয়ে দাঁড়াবে।
লারিজানি তার বিবৃতিতে পশ্চিমা দেশগুলোকে ‘যুদ্ধবাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ইরান কোনো যুদ্ধ চায় না, কিন্তু আক্রান্ত হলে তারা বসে থাকবে না। হরমুজ প্রণালীকে ইরান তার সার্বভৌমত্বের অংশ হিসেবে মনে করে এবং এই এলাকায় বিদেশি শক্তির যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে লারিজানির এই বক্তব্য ইরানের পরিবর্তিত ও আরও বেশি আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন। বর্তমান প্রশাসনের অধীনে ইরান এখন যেকোনো ধরনের চাপের মুখে পিছু না হটে সরাসরি পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। লারিজানি মনে করেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চাইলে বিশ্বশক্তিকে অবশ্যই ইরানের স্বার্থের মূল্যায়ন করতে হবে।
