ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জলকে গণপিটুনিতে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় ২৮ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। একইসঙ্গে ঢাবি ছাত্রদল নেতা শেখ রমজান আলীসহ পলাতক ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পিবিআইয়ের দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। পরোয়ানাভুক্ত শেখ রমজান আলী সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী ছিলেন। মামলার ২৮ আসামির মধ্যে বর্তমানে ৪ জন কারাগারে এবং ২ জন জামিনে রয়েছেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের তালিকায় ছাত্রদল নেতা রমজান আলী ছাড়াও হলের ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. জালাল মিয়া এবং বিভিন্ন বিভাগের আরও ২৬ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। পিবিআই দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই শিক্ষার্থীদের সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করে।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফজলুল হক মুসলিম হলে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে তোফাজ্জলকে প্রথমে গেস্ট রুমে আটকে রাখা হয়। পরে তাকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে ভাত খাওয়ানো হলেও পুনরায় দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে পরে মারা যান।
নিহত তোফাজ্জল বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ঢাবির এস্টেট অফিসের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
আদালত পলাতক ২২ আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিন ধার্য করেছেন। তোফাজ্জল হত্যার বিচার দাবিতে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ নেতাদের নাম আসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
