ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর সৃষ্ট চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামালি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, তাদের জাতীয় ফুটবল দল আসন্ন এই বিশ্ব আসরে অংশগ্রহণ করবে না।
ক্রীড়ামন্ত্রী ডোনিয়ামালি তার বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে বলেন, “এই দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনব্যবস্থা (যুক্তরাষ্ট্র) যখন আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে, তখন কোনো পরিস্থিতিতেই আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারি না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ফুটবলাররা নিরাপদ নন এবং টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার মতো কোনো পরিবেশ নেই।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপটি যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আগামী ১১ জুন উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে এই আসর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের এই আকস্মিক সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ফুটবল বিশ্বে এবং বিশেষ করে এশীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বের সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপ আসরটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই প্রথম ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮টি দল অংশ নেওয়ার কথা। আসরের পরিধি এবং দল সংখ্যা বাড়ায় এটি হতে যাচ্ছে ফুটবলের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ আয়োজন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে ইরান এই বিশাল আসর থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
এই ঘোষণার পর ফিফা বা আয়োজক দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে রাজনীতির এই ছায়া বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
