দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের পরে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দেশজুড়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করেছিল।তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নানা আলোচনা ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি, ক্ষমতায় ওঠার আগেই দেশকে জর্জরিত করেছে নানাবিধ গুরুতর অপরাধের ঘটনায়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপি নেতা ও কর্মীদের হামলায় অন্তত ২৪৭ জন নিহত এবং ৬৯ জনের বেশি ধর্ষণসহ নানাবিধ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে “জুলাই সনদ”কে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য গণভোটের আয়োজনের প্রস্তাব ছিল। দলটি প্রথমে এ প্রস্তাবে বিরোধিতা করলেও নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের শর্তে রাজি হয়।“যদিও বর্তমান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর দাবি ছিল জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করা।” দেশজুড়ে ৬৮.৫৯% ভোটার হ্যাঁ ভোট দিলেও, ক্ষমতায় আসার পরও বিএনপি কার্যত এই সনদ অনুযায়ী কোনো সংস্কার শুরু করেনি।
১২/০৩/২৬ বৃহস্প্রতিবার অনুষ্ঠিত নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাজনৈতিক উত্তেজনা চোখে পড়ার মতো ছিল। বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের সময়ের সংসদ অধিবেশন আস্থা অর্জন না করায় জনগন তা প্রত্যাখ্যান করেছিলো। তবে এবারো প্রথম অধিবেশনেই সরকারি দলের শোক প্রস্তাবে দেশের আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমীর ডা. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বক্তব্য দিয়ে শোক প্রস্তাবে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর নাম যুক্ত করার দাবি জানালে তা যুক্ত করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বিএনপির গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি অবহেলার প্রমাণ।
বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন, ক্ষমতায় আসার পরও পদে পদে ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দোষীদের মুক্তি দেওয়া, পদায়ন এবং জুলাইয়ে ছাত্রজনতার উপর গুলির নির্দেশ দেয়া স্বৈরাচারী আমলের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে নির্বাচনের আগে ও পরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ এবং অন্যান্য নানাবিধ অপরাধের কোনো কার্যকর বিচার হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি সরকারের অপরাধমুক্ত থাকার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমান্তরাল। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, অপরাধীরা বখাটে হয়ে উঠেছে এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাব গভীরতর হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি সরকারের বর্তমান নীতি গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির প্রতি অবমাননা। ক্ষমতায় আসার পরও কোন নির্দিষ্ট ন্যায়বিচার ব্যবস্থা না চালু করা এবং অপরাধীদের দমন না করায় জনগণ সরকারের উপর আস্থা হারাচ্ছে। এছাড়া গণভোটের ফলাফল কার্যকর করা না হওয়ায় দেশের জনমনে হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, ক্ষমতায় আসার আগে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণ সংক্রান্ত বিচার না হওয়ায় জনগণ সরকারকে দায়ী করছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক উত্তেজনা, সামাজিক অসন্তোষ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার নিতে পারে।
