তেহরানে ‘জেরুজালেম দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল গণসমাবেশ চলাকালীন বেপরোয়া বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সমাবেশের আশপাশের এলাকায় এই হামলা চললেও ইরানি জনতা পিছু না হটে তাদের বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত রেখেছে।
এদিনের সমাবেশে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি আলী লারিজানিকে বিশাল জনতার মাঝে প্রকাশ্যে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। তার সঙ্গে বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ইসরায়েলি বিমান যখন মাথার ওপর দিয়ে বোমাবর্ষণ করছিল, ঠিক তখন লারিজানি ও অন্য সামরিক কর্মকর্তাদের নির্ভীকভাবে জনগণের সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার প্রচণ্ড শব্দে চারপাশ কেঁপে উঠলেও সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কিত না হয়ে উল্টো সমস্বরে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন। দখলদার বাহিনীর এই হামলাকে ইরানি জনতাকে ভয় দেখানোর একটি ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
জেরুজালেম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই মিছিলে ইসরায়েল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে কঠোর স্লোগান দেওয়া হয়। হামলার তোয়াক্কা না করেই সাধারণ মানুষ ও সামরিক কর্মকর্তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেন। তেহরানের আকাশজুড়ে যুদ্ধবিমানের গর্জন শোনা গেলেও সমাবেশের শৃঙ্খলা ছিল অটুট।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আল-আকসা ও ফিলিস্তিনের সমর্থনে আয়োজিত এই সমাবেশে সরাসরি হামলা চালিয়ে ইসরায়েল মূলত ইরানের মনোবল ভাঙতে চেয়েছিল। তবে লারিজানি ও আইআরজিসি কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত স্লোগান তেহরানের কঠোর প্রতিরোধের বার্তাই বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দিয়েছে।







