ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার দিন খুনিদের নিয়ে ‘নেহারি’ খেয়ে বিজয় উদযাপন করেছিলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার স্মৃতি ও বিতর্কের মাঝেই শনিবার (১৪ মার্চ) দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুই মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন তিনি।
শনিবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে তিনি মুক্তি পান। কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদির ওপর যখন প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়, তখন তিনি নেহারি খেয়ে সেই মুহূর্তটি উদযাপন করেছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া খুনিদের জবানবন্দিতেও এই উৎসবের কথা উঠে এসেছে, যা জুলাই পরবর্তী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে ধানমন্ডির একটি জিম থেকে ডিবি পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৫ ডিসেম্বর তাকে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় তাকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গত ৫ মার্চ উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। গত বুধবার ওই মামলাতেও জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা থাকেনি।
জুলাই বিপ্লবের পক্ষের ছাত্র-জনতা আনিস আলমগীরের এই মুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, হাদি হত্যার নেপথ্যে থাকা ও খুনিদের উৎসাহিত করা এই ‘ফ্যাসিস্ট দোসর’কে আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে হাদি হত্যা মামলাটি সিআইডি অধিকতর তদন্ত করছে, যেখানে এই নেহারি উৎসবের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
