ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের (অপারেশন এপিক ফিউরি) মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন বিমানবাহিনী তাদের শক্তিশালী এমকিউ-৯ রিপার (MQ-9 Reaper) ড্রোন বহরের প্রায় ১০ শতাংশ হারিয়েছে। ‘এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিন’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের আকাশসীমায় নজরদারি ও হামলা চালাতে গিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১১টি রিপার ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজও এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর নিশ্চিত করেছে। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার হিসেবে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৩০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, রিপার ড্রোনগুলো মূলত সন্ত্রাসবাদ দমনে এবং কম শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে এমন অঞ্চলে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের আধুনিক ও শক্তিশালী সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমের সামনে এই ধীরগতির ড্রোনগুলো বেশ অসহায় প্রমাণিত হচ্ছে।
তবে ড্রোন হারানো সত্ত্বেও মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, এই চালকবিহীন বিমানগুলো ব্যবহারের ফলে মার্কিন বৈমানিকদের জীবন রক্ষা পাচ্ছে। ড্রোনগুলো ধ্বংস হলেও সেগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে ইরানের ৯৫ শতাংশের বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন লাঞ্চার ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম।
এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে মার্কিন বিমানবাহিনীর ড্রোন সরবরাহে টান পড়েছে। এমনকি তাইওয়ানের মতো মিত্র দেশগুলোতে পূর্বনির্ধারিত ড্রোন সরবরাহ বিলম্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনা আধুনিক আকাশ যুদ্ধে রিপারের মতো নন-স্টিলথ (রাডারে শনাক্তযোগ্য) ড্রোনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
