ভারতের মিজোরামে সাতজন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতারের ঘটনায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ছয়জন ইউক্রেনীয় এবং একজন আমেরিকান নাগরিক রয়েছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই ইউক্রেনীয় গ্রুপটির সবাই সেদেশের ‘স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সের’ সক্রিয় সদস্য।
গ্রেফতারকৃত ইউক্রেনীয়দের মধ্যে চারজন লজিস্টিকস ও প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্ট এবং তিনজন কমিউনিকেশনস ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। অন্যদিকে, আটক আমেরিকান নাগরিক নিজেকে মার্কিন সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্স অপারেটর দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কেবল তাঁর ‘প্রাইভেট মিলিটারি কন্ট্রাক্টর’ পরিচয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভারতীয় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) দাবি অনুযায়ী, এই বিদেশি নাগরিকরা মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় জান্তা বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘পিডিএফ’ (PDF) এবং ‘কারেন লিবারেশন আর্মি’কে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। বিশেষ করে এফপিভি (FPV) ড্রোন অ্যাটাক মেথডোলজি, কাউন্টার ড্রোন ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং ড্রোন ডিটেকশন ও জ্যামিংয়ের মতো উচ্চতর সামরিক কৌশল শেখানোই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই গ্রেফতারি একটি বড় সাফল্য। ভারতের মাটিতে বসে প্রতিবেশী দেশের বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ড্রোন প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানোকে নয়াদিল্লি বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছিল। এই বিদেশি চক্রটিকে নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে ভারত তার অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তবে এই স্পর্শকাতর অপারেশনের পেছনে একটি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সমীকরণের গুঞ্জন উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে যে, মিজোরামের এই সফল অভিযানে ভারতকে অত্যন্ত নিখুঁত ও উচ্চতর তথ্য (ইন্টেল) দিয়ে সহায়তা করেছে রুশ গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ (GRU)-এর বিশেষ ‘ইউনিট-২৯১৫৫’। যদিও বিষয়টি নিয়ে নয়াদিল্লি বা মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবে ভূ-রাজনীতিতে রাশিয়া ও ভারতের এই গোপন সমন্বয় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
