দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের বরাদ্দ করা আর্থিক উপহার ছাত্রদল নেতাদের মাঝে বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ কয়েকজন ছাত্রদল নেতার পোস্টকে কেন্দ্র করে জনমনে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সিদ্ধেশ্বরী কলেজ ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান তাঁর ফেসবুক ওয়ালে অনুদানের টাকার খামের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর পক্ষ হতে ঈদ উপহার।” একইভাবে আরেকজন ছাত্রদল নেতা লিখেছেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ঈদ উপহার। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাইয়া, আমার মতো ছোট কর্মীদের আপনি ভুলেননি।”
ছাত্রদল নেতাদের এমন ফেসবুক পোস্ট দেখে সাধারণ নাগরিক ও নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, দুস্থ ও অভাবী মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বরাদ্দ করা এই টাকা কেন দলীয় কর্মীদের পকেটে যাচ্ছে? সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অধিকার এভাবে দলীয় ভাগাভাগির বিষয়ে পরিণত হওয়ায় ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ফেসবুকে এই সংক্রান্ত পোস্টগুলোতে সাধারণ মানুষের করা মন্তব্যগুলো ছিল বেশ কঠোর। একজন শিক্ষার্থী মন্তব্য করেছেন, “দুস্থদের টাকা দিয়ে হলেও যেন এদের চাঁদাবাজি থামানো যায়!” সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকেই বোঝা যাচ্ছে যে গরিব-অসহায়দের জন্য আসা এই বরাদ্দের বড় অংশই নেতা-কর্মীরা ভোগ করবেন, যার ফলে প্রকৃত অভাবীরা বঞ্চিত থেকে যাবেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মাঝে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে ত্রাণ বা ঈদ উপহারের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে দলীয় পরিচয় প্রাধান্য পেলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দলীয় কর্মীদের ব্যক্তিগত প্রাপ্তি হিসেবে প্রচার করার এই প্রবণতাকে অনেকেই রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন।
