ইরানি হামলায় মার্কিন পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাটি সামরিক বিশ্বে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আল জাজিরার তথ্যমতে, ইরান এই হামলায় এমন একটি অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে, যা গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, পশ্চিমা প্রযুক্তির শীর্ষবিন্দু হিসেবে পরিচিত ‘স্টিলথ’ বা অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতাও এখন আর অভেদ্য নয়।
এফ-৩৫ মূলত একটি ‘স্টিলথ’ প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান। এই প্রযুক্তির প্রধান কাজ হলো রাডার, ইনফ্রারেড বা সোনার ডিটেকশন থেকে বিমানকে আড়াল রাখা। অর্থাৎ, শত্রুপক্ষের রাডারে এই বিশাল বিমানটিকে বড় কোনো বস্তুর বদলে একটি ক্ষুদ্র পাখির মতো দেখানোর কথা। কিন্তু ইরানের দাবি অনুযায়ী, যদি এই বিমানকে নিখুঁতভাবে লক করে হামলা চালানো হয়ে থাকে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন বসিয়ে দিয়েছে।
এই হামলার প্রভাব কেবল সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবেও সুদূরপ্রসারী। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এফ-৩৫ কেবল একটি অস্ত্র নয়, এটি তাদের কোটি কোটি ডলারের একটি বৈশ্বিক ব্যবসা। বিশ্বের অনেক দেশ শত শত কোটি ডলার খরচ করে এই বিমান কিনছে কেবল এর ‘অদৃশ্য’ থাকার ক্ষমতার ওপর ভরসা করে। যদি একবার প্রমাণিত হয় যে এটি সাধারণ রাডার বা নতুন কোনো প্রযুক্তিতে ধরা পড়ে যাচ্ছে, তবে এর আন্তর্জাতিক বাজার ধসে পড়ার এবং আমেরিকার সামরিক মান-ইজ্জত ধুলোয় মিশে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।
এই ঘটনার পর সামরিক বিশেষজ্ঞদের মনে বড় একটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ও আধুনিক এই যুদ্ধবিমানের বিশেষত্ব আসলে কোথায় রইল? একটি দেশ কেন এত টাকা খরচ করে এই বিমান কিনবে, যদি তা শত্রুর গোলায় এভাবে ভূপাতিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে? এটি কি প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা নাকি ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতি, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
এই হামলাটি আধুনিক যুদ্ধবিমানের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। এর আগে স্টিলথ প্রযুক্তিকে আকাশপথের ‘অজেয় সম্রাট’ মনে করা হতো। কিন্তু ইরানের এই সফল আঘাত প্রমাণ করছে যে, প্রযুক্তির লড়াইয়ে কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। এই ঘটনার পর পেন্টাগন তাদের এফ-৩৫ প্রজেক্টের নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হতে পারে।
