সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে ঈদুল ফিতরের পর কঠোর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর ‘জুলাই আদেশ’ অনুযায়ী ১৬ মার্চের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে রাষ্ট্রপতি অধিবেশন আহ্বান না করায় দেশে নতুন করে রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।
জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নের প্রশ্নে জামায়াত এবং এনসিপি একই অবস্থানে থাকলেও ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সংবিধানের বাধ্যবাধকতার কথা বলে ভিন্নমত পোষণ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান সংবিধানে এই পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই, তাই এটি গঠন করতে হলে আগে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদে এই বিলম্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে অধিবেশন না ডাকা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ব্যত্যয়। গত শনিবার ১১ দলীয় জোটের জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, সরকার সংস্কারের দাবি এড়িয়ে গেলে রাজপথেই এর ফয়সালা করা হবে।
জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেছেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এনসিপির শীর্ষ নেতারাও জানিয়েছেন, গণভোট বাস্তবায়নের প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবেন না এবং প্রয়োজনে আইনি লড়াই ও রাজপথের আন্দোলন সমানতালে চলবে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ঈদের পর লিয়াজোঁ কমিটির সভার মাধ্যমে বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সংসদের ভেতরে অচলাবস্থা নিরসন না হলে রাজপথই হবে তাদের শেষ বিকল্প।
