জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু বর্তমান বিএনপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই সরকার জনগণের সরকার হয়ে উঠতে পারেনি। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গঠনের পর থেকে প্রতি পদে পদে তারা জনবিচ্ছিন্নতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে।
জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী স্মৃতি স্মরণ করে ডা. মিতু বলেন, এত বড় একটি গণঅভ্যুত্থানের পরও বিএনপি কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি এক ফ্যাসিবাদের শেষে আরেক ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়, তবে হাজারো মায়ের বুক খালি করে জুলাই আসার কী প্রয়োজন ছিল? দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজের শখের চিকিৎসা পেশা ছেড়ে আন্দোলনে নামার সার্থকতা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
মাহমুদা মিতু তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের কর্মী হিসেবে সরকারের ভুল-ত্রুটি যুক্তি ও তথ্য দিয়ে তুলে ধরা তার দায়িত্ব। তবে এই সমালোচনা সহ্য করতে না পেরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে অত্যন্ত নোংরাভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। এই ধরনের আক্রমণ সত্ত্বেও তিনি তার কলম বা কণ্ঠ কোনোটিই থামাবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সরকারি সহায়তার সুষম বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা সরাসরি দলীয় সংগঠনের নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দলীয় নিয়োগকে তিনি স্বজনপ্রীতির নিকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ডা. মিতু লেখেন, যে প্রধানমন্ত্রী গরিবের হক দলীয় কর্মীদের হাতে তুলে দেন, তিনি জনগণের প্রধানমন্ত্রী হতে ব্যর্থ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব কোনো শক্ত অবস্থান নেই এবং তিনি কোনো কিছুর বিরুদ্ধেই দৃঢ় ভূমিকা নিচ্ছেন না।
সবশেষে তিনি সরকারকে একটি ‘পাপেট’ বা পুতুল নাচের সরকারের সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, রাষ্ট্রপ্রধান যদি সিংহের মতো সাহসী ও স্বাধীন না হয়ে পাপেট হয়ে থাকেন, তবে জনগণের সমালোচনা সহ্য করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না। দেশের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নেতৃত্বের সংকট সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
