মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) আইআরজিসির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে চালানো এই হামলায় নাঈনি প্রাণ হারান।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘আমেরিকান-জায়নিস্টদের কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ২০২৪ সাল থেকে আইআরজিসির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা নাঈনিকে তারা ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে এই উচ্চপর্যায়ের হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জেনারেল নাঈনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেছিলেন, যদি সাহস থাকে তবে যেন তারা পারস্য উপসাগরে মার্কিন জাহাজ পাঠায়। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, ক্রমাগত হামলার মুখেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ এক মুহূর্তের জন্যও থেমে নেই।
গত কয়েক দিনে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর এটি ছিল ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে গত বুধবার ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিব ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। তারও আগে গত মঙ্গলবার পৃথক অভিযানে বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি এবং ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যা করা হয়।
টানা কয়েক দিনের এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামো বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে মুজতবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণের সন্ধিক্ষণে এই শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মৃত্যু তেহরানের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
