ত্রিশ দিনের সিয়াম সাধনা শেষে ভারতজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। শনিবার (২১ মার্চ) কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী—পুরো দেশ উৎসবে মেতে উঠলেও পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বৃষ্টির মধ্যেই রেড রোডে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের বৃহত্তম জামাত। প্রতিবছরের মতো এবারও রেড রোডের এই বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ রেড রোডে কয়েক হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। বৃষ্টির ঝাপটা উপেক্ষা করেই নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সাধারণ মানুষ। নামাজ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৃষ্টিকে ‘ঈশ্বরের আশীর্বাদ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
উৎসবের মঞ্চ থেকে সম্প্রীতির বার্তা দিলেও নির্বাচনী আবহে রাজনৈতিক আক্রমণ থেকে বিরত থাকেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিদেশে গিয়ে সবার সঙ্গে হাত মেলান, তখন বন্ধুত্বের খাতিরে কে হিন্দু আর কে মুসলিম তা নিয়ে ভাবেন না। কিন্তু ভারতে এসেই বলেন এর নাম কেটে দাও, ওর নাম কেটে দাও, এরা সব অনুপ্রবেশকারী। আমি তো বলব, আপনিই সবথেকে বড় অনুপ্রবেশকারী।’
রেড রোড ছাড়াও কলকাতার নাখোদা মসজিদ, টিপু সুলতান মসজিদ এবং পার্ক সার্কাস ময়দানসহ বিভিন্ন স্থানে বিপুল উৎসাহে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তবে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয়ের কিছু এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদ ও লখনৌর রুমি দারওয়াজায় লাখো মানুষের সমাগমে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়।
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ের জুমা মসজিদ ও মাহিম দরগা এবং রাজস্থানের আজমিরে খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে মোতায়েন ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আহমেদাবাদ থেকে থিরুভানানথাপুরম—সর্বত্রই উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
ঈদ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এদিকে সীমান্ত এলাকায় সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ ও বিজিবি) নিজেদের মধ্যে মিষ্টি বিনিময় করেছে।
