ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত বন্ধে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তেহরান আগে এমন কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে, ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ‘খুবই মরিয়া’ হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের ‘উপযুক্ত ব্যক্তিদের’ সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে কার সঙ্গে এই আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, তেহরানের পক্ষ থেকে তেল ও গ্যাস খাত সংশ্লিষ্ট একটি বড় ধরনের প্রস্তাব আসতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রাধান্য পাচ্ছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। এমনকি তিনি বলেন, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করা হয়েছে—যদিও এসব দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল পাওয়া যায়নি।
মাঠপর্যায়ের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালী এখনো ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ট্রাম্পের এসব বক্তব্যকে ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। একই সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন তেহরানের কাছে ১৫ দফা একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক তেরেসা বো জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি সম্ভবত পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যয়বহুল ও অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে রয়েছেন। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ মানুষ ইরানে হামলার বিরোধিতা করছে।
বিশ্লেষক নেগার মরতাজাভি মনে করেন, ইরান এই যুদ্ধ নিজের শর্তে শেষ করতে চাইবে। তার মতে, তেহরান নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধাও নিশ্চিত করতে চায়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনে প্রভাব বিস্তার করা ইরানের কৌশলের অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সামরিক পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং হামলা অব্যাহত থাকবে। সংঘাতের মধ্যে ইসরাইলে ইরানি হামলা এবং ইরানের বুশেহর পারমাণবিক স্থাপনার কাছেও আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে, যদিও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
