নেপালের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দেশটির সব স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক মদদপুষ্ট ছাত্র সংগঠনগুলো বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারের লক্ষ্যে ঘোষিত ১০০ দফার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ও মান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যমান সব রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো বাতিল করা হবে। এর পরিবর্তে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ বা ‘ভয়েস অব স্টুডেন্টস’ নামে নতুন একটি কাঠামো চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় একটি স্থায়ী ‘অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার’ নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখন থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশ করতে হবে। এতে সেশন জট ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে কোনো শিক্ষার্থীর স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য ‘নাগরিকত্ব সনদ’ প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারের এই সব নির্দেশনা কার্যকর করার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
