ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখল করা মার্কিন সেনাদের জন্য এক ভয়াবহ ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটিতে সম্ভাব্য যেকোনো বিদেশি হামলা ঠেকাতে ইরান চার স্তরের এক শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ফলে এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য মোটেও সহজ হবে না বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
দ্বীপটির আকাশ প্রতিরক্ষায় ইরান হক মিসাইল সিস্টেম, অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান এবং শক্তিশালী ম্যানপ্যাড মোতায়েন করে রেখেছে। এছাড়া স্থলপথে আক্রমণ ঠেকাতে দ্বীপের প্রতিটি ল্যান্ডিং জোনে অ্যান্টি-পার্সোনেল ও অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মাইন বিছিয়ে রাখা হয়েছে। ইরানি সেনারা সেখানে অত্যন্ত শক্তিশালী বাঙ্কারে অবস্থান নিয়ে যেকোনো মুহূর্তের সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
নৌপথেও ইরান বড় ধরনের পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। মার্কিন হামলা শুরু হলে ইরানি নৌবাহিনী তাদের অ্যান্টি-শিপ মিসাইল এবং দ্রুতগামী অ্যাটাক বোট নিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরার কৌশল নিয়েছে। দ্বীপটি ইরানের মূল ভূখণ্ডের খুব কাছে হওয়ায় সেখানে অবস্থান নেওয়া যেকোনো সেনাদল সহজেই মূল ভূখণ্ড থেকে ছোঁড়া ড্রোন ও মিসাইল হামলার সরাসরি নাগালে থাকবে।
সব মিলিয়ে খারগ দ্বীপকে ইরান এমন এক দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে পরিণত করেছে, যেখানে প্রবেশ করা মানেই মার্কিন সেনাদের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি নেওয়া। তেল রপ্তানির এই প্রধান কেন্দ্রটি রক্ষা করতে তেহরান তাদের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের যে পরিকল্পনা সাজিয়েছে, তা আধুনিক যুদ্ধকৌশলে এক মরণফাঁদ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
