ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ এবং সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে গাজা, লেবানন ও পশ্চিম তীরে একযোগে স্থল যুদ্ধ এবং ইরান ও ইয়েমেনের সঙ্গে আকাশপথে লড়াই চলায় ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা প্রায় শেষ সীমায় পৌঁছেছে। এতগুলো ফ্রন্টে ব্যস্ত থাকায় নতুন করে ইরানে সেনা পাঠানোর মতো বাড়তি জনবল বা রসদ তাদের নেই।
ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ কৌশল এবং প্রশিক্ষণের ধরনেও বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে লজিস্টিক সাপোর্ট বা রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ও বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত সাপ্লাই চেইনের তুলনায় ইসরায়েল অনেকটাই পিছিয়ে। দীর্ঘ দূরত্বে বড় আকারের স্থল অভিযানে সমন্বয়হীনতার ঝুঁকি থাকায় সরাসরি অংশগ্রহণ এড়িয়ে যেতে পারে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান যুদ্ধের ফলে ইসরায়েলি সাধারণ জনগণের মধ্যে এক ধরনের ক্লান্তি চলে এসেছে। এই মুহূর্তে নতুন কোনো দেশে বিশেষ করে ইরানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্থল অভিযানে যাওয়ার ব্যাপারে সেদেশের জনমতের কোনো সমর্থন নেই। অভ্যন্তরীণ এই রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপও ইসরায়েলকে সরাসরি অভিযানে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরাসরি স্থল অভিযানে অংশ না নিলেও ইসরায়েল অত্যন্ত গোপনীয় ও ছোট আকারের ‘কমান্ডো অপারেশন’ পরিচালনা করতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত হামলা চালিয়ে ফিরে আসাই হবে তাদের মূল কাজ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম স্পুটনিকের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, সরাসরি যুদ্ধের বদলে বুদ্ধিবৃত্তিক এবং চোরাগোপ্তা হামলাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে ইসরায়েলি ভূমিকা।







