বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) দাবি করেছে যে, ইরানকে সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাস্ত না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। উপসাগরীয় এই দেশগুলোর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান এখনো যথেষ্ট দুর্বল হয়নি। ফলে এখনই যুদ্ধ বন্ধ করলে কোনো টেকসই বা ‘ভালো চুক্তি’ সম্ভব হবে না বলে মনে করছে রিয়াদ।
আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান সবচেয়ে কঠোর বলে জানা গেছে। তারা এমনকি ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তাব পর্যন্ত দিয়েছে। আমিরাতি কর্মকর্তাদের মতে, যারা বসতবাড়িতে ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালায়, আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে সেই ইরান শাসনব্যবস্থা আর গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তারা সেই নিশ্চিত গ্যারান্টি চায়।
উপসাগরীয় মিত্রদের প্রধান দাবি হলো—যেকোনো নতুন চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও মিসাইল প্রোগ্রাম পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করতে হবে। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সব পথ চিরতরে রদ করার বিষয়টিও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে তারা। তবে এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ওমান এবং কাতার এখনো কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিত্রদের এমন চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করবে নাকি আলোচনার পথে হাঁটবে, তা এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয়।
