ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান চলাচলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে স্পেন। সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইরান সংশ্লিষ্ট কোনো সামরিক কর্মকাণ্ডে স্পেনের আকাশসীমা বা যৌথ ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না। তার ভাষায়, “স্পেনের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার—এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় নেই।” তিনি এই যুদ্ধকে “গভীরভাবে অবৈধ ও অন্যায্য” বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে চলতি মাসেই স্পেন জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে পারবে না। স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও এই যুদ্ধকে “অন্যায্য” ও “বিপজ্জনক” হিসেবে আখ্যা দেন।
স্পেনের এই অবস্থানের পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদ্রিদের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দেন। ফলে রোতা ও মোরোন ঘাঁটি ব্যবহার করতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৫টি সামরিক বিমান সরিয়ে নিতে হয়েছে।
বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী সানচেজের নেতৃত্বে স্পেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের অন্যতম কড়া সমালোচকে পরিণত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেখানে তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, সেখানে স্পেন সরাসরি ইরানে হামলার বিরোধিতা করেছে।
মাসের শুরুতে সানচেজ সতর্ক করে বলেন, “বিশ্বের বড় বড় বিপর্যয় এভাবেই শুরু হয়। সংঘাত ও বোমা দিয়ে কখনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।”
এছাড়া গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধেও স্পেন দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে। গত অক্টোবরে দেশটির পার্লামেন্ট ইসরাইলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলে ইসরাইল তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়।







