দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা ইমান উল্লাহ মাস্তানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে আগানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমান উল্লাহ মাস্তান আগানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং এই অগ্নিকাণ্ড মামলার প্রধান আসামি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের দেহ এতটাই দগ্ধ হয়েছিল যে, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন— দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মিম আক্তার (১৭), মাদারীপুরের শাহিনুর (৩৫) এবং পটুয়াখালীর মঞ্জু বেগম। নিহতদের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম; তারা এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এই কারখানাটি ছিল কার্যত একটি ‘মৃত্যু ফাঁদ’। সেখানে কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা জরুরি নির্গমন পথ ছিল না। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, কাজ চলাকালীন কারখানার মূল দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো। ফলে আগুন লাগার পর ভেতরে থাকা শ্রমিকরা বের হওয়ার কোনো পথ না পেয়ে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান।
প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, তা নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় সব ধরনের নিরাপত্তা মানদণ্ড উপেক্ষা করেই এই মরণঘাতী ব্যবসা চালানো হতো। বিএনপি নেতা গ্রেপ্তারের পর এই ঘটনার পেছনে আর কারা জড়িত এবং কার গাফিলতিতে এই প্রাণহানি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।







