জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই বেসরকারি খাতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি মাসের জন্য নতুন দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে তা কার্যকর হচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ ভোক্তাদের এই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে।
বাজারে সরকারি নির্ধারিত দাম কার্যকর না হওয়ায় ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতারা একে অপরকে দায়ী করছেন। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকেই তাদের বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে, ফলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণ করলেও তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমছে না।
বর্তমানে দেশে এলপিজি চাহিদার ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাত পূরণ করে, আর সরকারি সরবরাহ মাত্র ২ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি এলপিজির সরবরাহ কম থাকা এবং যথাযথ নজরদারির অভাবেই অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। অনেক এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট থাকায় রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায় নিরুপায় হয়ে ভোক্তারা বাড়তি দামেই গ্যাস কিনছেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও পরিস্থিতির স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। অনেক পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিইআরসি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রির নির্দেশ দিলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন না থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
