ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা দুর্নীতির মামলার বিচার কাজ আগামী রবিবার থেকে পুনরায় শুরু হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থার কারণে দেশজুড়ে জারি করা জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার আদালতের একজন মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিচারব্যবস্থা আবার সচল হওয়ায় এখন থেকে শুনানি নিয়মিত চলবে বলে আদালতের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পর গত বুধবার ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলগুলো পুনরায় খুলতে শুরু করেছে। মূলত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ায় জনজীবনে স্বাভাবিক ছন্দ ফিরতে শুরু করেছে।
তবে দুই পক্ষের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার কারণে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
নেতানিয়াহুই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী, যাকে এমন বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ২০১৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হলেও তিনি বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছেন। ২০২০ সালে এই বিচার শুরু হলেও বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা বারবার বিলম্বিত হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন নেতানিয়াহুকে এই সব অভিযোগ থেকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। তবে দোষী সাব্যস্ত হলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







