জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার অন্যায় ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে জনগণকে অপমান করেছে। তবে এই অপমানের জবাব সহিংসতার মাধ্যমে নয়, বরং কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায় করা হবে বলেও তিনি জানান।
শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন এক জামায়াত নেতাকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনের দিন প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সিরাজুল ইসলাম (৭৮)। বর্তমানে তিনি মাথায় আঘাত নিয়ে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তারা এক চুলও ছাড় দেবেন না এবং প্রয়োজনে জীবন দিতে প্রস্তুত আছেন।
পার্লামেন্টে যাওয়ার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষায়, যারা সহিংসতা বা মানুষের জীবননাশের মাধ্যমে সংসদে যেতে চায়, তারা জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব হওয়া উচিত মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি হলো সুষ্ঠু নির্বাচন। ভবিষ্যতে যেন কোনো নির্বাচনে সহিংসতা না ঘটে এবং কোনো পরিবার যেন প্রিয়জন হারানোর বেদনায় না ভোগে—সে আহ্বান জানান তিনি। আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, হাত বা অস্ত্রের লড়াই নয়, নীতির লড়াই হওয়া উচিত।
৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত শেরপুর ও বগুড়া-সংক্রান্ত নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, উভয় জায়গায়ই ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও সহিংসতা ঘটেছে। বিশেষ করে শেরপুর-৩ আসনে সহিংসতার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হাসপাতালে আগমনের সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসান, জেলা জামায়াতের আমির আবদুল করিমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।







