রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে। সরবরাহ ঘাটতি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার ফলে মাছ, মাংস, ডিম ও সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও দেশি ও সোনালি মুরগির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ইলিশের দামও বেড়েছে।
সম্প্রতি বাজারে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে। কাকরোল ১৪০ টাকা, করলা ১০০–১২০ টাকা, বেগুন ১০০–১৩০ টাকা, সজিনা ১২০–১৪০ টাকা, পটোল ৮০–১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০–১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ৫০–৬০ টাকা, গাজর ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি। আলুর দাম বেড়ে ২৫–৩০ টাকায় উঠেছে। শাকের আঁটি ৩০–৫০ টাকা এবং লাউ ৬০–৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে।
মুরগির বাজারে সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৪০০ টাকা কেজি হয়েছে, যা ঈদের আগে ছিল ৩০০–৩২০ টাকা। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি কিছুটা কমে ১৮০–১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি ৭০০–৭৫০ টাকা কেজি। গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে—গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,২৫০–১,৩০০ টাকা কেজি।
ডিমের দামও বেড়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১১০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে—সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৪০–৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া—ওজনভেদে প্রতি কেজি ১,৭০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
ভোজ্যতেলের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি বেড়ে ১৯৫–২০০ টাকা এবং পাম তেল ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সিলিন্ডার গ্যাসের দামও বেড়েছে। সরকার নির্ধারিত ১,৭২৮ টাকায় কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পর্যাপ্ত সরকারি নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে, ফলে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়ছে।







