সিরিয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের দায়ে ফরাসি সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লাফার্জ (বর্তমানে হোলসিম গ্রুপের অংশ) ফ্রান্সের আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে সিরিয়ায় নিজেদের একটি সিমেন্ট কারখানা চালু রাখতে কোম্পানিটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আইএস (IS)-সহ বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনকে প্রায় ৫.৬ মিলিয়ন ইউরো প্রদান করেছিল। এই অপরাধের দায়ে কোম্পানির সাবেক সিইও ব্রুনো লাফন্টকে ৬ বছরের কারাদণ্ডসহ আরও সাতজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালে একই অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দোষ স্বীকার করে লাফার্জকে ৭৭৮ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা জরিমানা দিতে হয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও ব্যবসায়িক মুনাফা এবং কারখানার কার্যক্রম সচল রাখতে কোম্পানিটি নীতিবিবর্জিতভাবে সন্ত্রাসীদের হাতে অর্থ তুলে দিয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
বাংলাদেশেও লাফার্জ হোলসিম অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে থেকে তাদের সিমেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই বহুজাতিক কোম্পানিটি বাংলাদেশের নির্মাণ খাতের অন্যতম প্রধান যোগানদাতা। সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে লাফার্জ হোলসিমের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি বেশ ইতিবাচক। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে কোম্পানিটির বার্ষিক নিট বিক্রয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বর্তমানে বাংলাদেশে লাফার্জ হোলসিমের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও মুনাফার ধারা বেশ শক্তিশালী। ২০২৪ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি তাদের পরিচালনা মুনাফায় স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। দেশের বাজারে সিমেন্টের পাশাপাশি অ্যাগ্রিগেট (পাথর) ব্যবসার প্রসারের মাধ্যমে তারা তাদের আয়ের উৎস আরও বাড়িয়েছে। সিরিয়ায় অর্থায়নের কেলেঙ্কারি আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করলেও বাংলাদেশের স্থানীয় কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত এর কোনো সরাসরি প্রভাব দেখা যায়নি।
