অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে। সোমবার বিকেলে কারখানাটিতে সর্বশেষ পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গত মাস থেকেই তেলের অভাবে শোধনাগারটি উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছিল, যা এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ল।
ইআরএল সূত্রে জানা গেছে, শেষ কয়েকদিন পাইপলাইনে জমে থাকা এবং ট্যাংকের তলানিতে থাকা ‘ডেড স্টক’ তেল দিয়ে কোনোমতে কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছিল। সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন তেল পরিশোধন করার সক্ষমতা থাকলেও সংকটের কারণে গত মাস থেকে তা ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে ব্যবহারের মতো কোনো তেল আর মজুত নেই।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গত প্রায় দুই মাস ধরে দেশে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। আমদানির পরবর্তী চালান মে মাসের প্রথম সপ্তাহের আগে আসার সম্ভাবনা নেই।
উৎপাদন বন্ধের বিষয়ে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তবে জ্বালানি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই শোধনাগার বন্ধ থাকলেও আপাতত সাধারণ সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
সাধারণত দেশে প্রতি বছর ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার বড় একটি অংশ ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল। ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মে মাস পর্যন্ত দেশীয় পরিশোধনের সক্ষমতা থমকে থাকবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে কাজ করছে সরকার।
