ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দেড় মাসেরও কম সময়ে চালানো বিভিন্ন হামলায় দেশটির ২৭৮ জন শিক্ষার্থী এবং ৬৭ জন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় শিক্ষা খাতের অপূরণীয় ক্ষতির এ চিত্র ফুটে উঠেছে।
ভয়াবহ এই সংঘাতের প্রভাবে প্রাণহানির পাশাপাশি বহু মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব হামলায় আরও ১৯৬ জন শিক্ষার্থী এবং ২৬ জন শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর এমন ধারাবাহিক হামলা দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় গভীর শোক ও অস্থিরতা তৈরি করেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর ওপরও চালানো হয়েছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। সরকারি হিসেব মতে, দেশব্যাপী ৯৩৩টি স্কুল হামলার শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৫৪টি শিক্ষা অফিস, ১৭টি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ৩৬টি স্পোর্টস হল এবং ৮টি স্টুডেন্ট ক্যাম্প ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশটির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিপুল সংখ্যক স্কুল ও শিক্ষা কেন্দ্র অকেজো হয়ে পড়ায় যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার ও সহায়তার প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
